আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

উলিপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার টাকা কেটে নেয়ার অভিযোগ

সুভাষ চন্দ্র, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বয়স্ক ভাতার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে পাঁচ হাজার করে টাকা কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও ভিজিএফে’র চাল বিতরণে নজির বিহীন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। দুর্নীতির এ ঘটনাটি ঘটেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নে।

সরেজমিন খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ঐ ইউনিয়নের সাতঘড়িয়ার পাড় গ্রামের নছিয়তুল্ল্যার পুত্র আব্দুল আজিজ (৭০) যার বয়স্ক ভাতার বহি নং নং১৩৩৪৬, সঞ্চয়ী হিসাব নং ১৬২২ এবং একই গ্রামের হাজেরা বেগম বহি নং ৬১০৫, সঞ্চয়ী হিসাব নং ৭৯০ কে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাঁরা জানান পান্ডুল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মঙ্গা গত ১২ আগস্ট লোক মারফরত খবর দিয়ে তাদেরকে উলিপুর কৃষি ব্যাংকে ডেকে নেন। ঐ দিনই তারা ব্যাংকে গেলে সেখানেই তাদের হাতে বয়স্ক ভাতার বই তুলে দেন চেয়ারম্যানের গাড়িচালক রকেট মিয়া। বই পেয়ে তারা ব্যাংকে টাকার জন্য দীর্ঘক্ষন লাইন ধরে অপেক্ষা করছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে চেয়ারম্যান ঐ ব্যাংকে পৌঁছান বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর কার্ডধারী দুইজন ব্যাংক থেকে ৬ হাজার করে টাকা পান। কার্ডধারী আব্দুল আজিজ ও হাজেরা জানান, তারা টাকা তোলার কিছুক্ষণের মধ্যে চেয়ারম্যান তাদের সামনে এসে ৫ হাজার করে টাকা কেটে নিয়ে মাত্র এক হাজার করে টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি যেতে বলেন। এসময় তার গাড়িচালক রকেট মিয়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ অবস্থায় তারা অসহায়ের মতো ভাতার সিংহভাগ টাকা চেয়ারম্যানের হাতে দিয়ে অসহায় এর মত বাড়িতে ফিরে আসেন।

সংশ্লিষ্ট ইউপির জনৈক একজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এবারে নতুন বয়স্ক ভাতার তালিকায় থাকা বেশিরভাগ উপকারভোগীর কাছ থেকেই এভাবে পাঁচ হাজার করে টাকা কেটে নেয়া হয়েছে।

সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী ৬০ বছরের নীচে কাউকে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও হাজেরা বেগম এর ক্ষেত্রে তা একেবারেই অনুসরণ করা হয়নি। হাজেরা বেগম এর বয়স ষাট পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এভাবে বয়স্ক ভাতার উপকারভোগী নির্বাচনে সীমাহীন দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সরকারের এই প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

অন্যদিকে একই ইউনিয়নের বৈরাগী পাড়া গ্রামের প্রশান্ত চন্দ্র মহন্তের প্রতিবন্ধি কন্যা প্রিয়াংকা রাণীর ভাতার ৯ হাজার টাকা তুলে ৮ হাজার টাকাই কেটে নিয়েছেন ওই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু মিয়া। একই ভাবে অধিকাংশ প্রতিবন্ধী কার্ডধারীদের কাছ থেকে আট হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান ও তার দলবলের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের আব্দুল জলিল মাস্টারের অসহায় পুত্র শারীরিক প্রতিবন্ধীর স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ওই ইউনিয়নের ১.২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য আকতারা বেগম ৬ মাস আগে তার প্রতিবন্ধী স্বামীকে ভাতা কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তার ভাগ্যে কার্ড জোটেনি। এখন টাকা চাইতে গেলেও টাকা দিচ্ছে না। অথচ ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী নয় এমন অনেকের ভাগ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা জুটছে, প্রকৃত প্রতিবন্ধীরা ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হলেও বর্তমানে খোলস পাল্টিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কতিপয় নেতার সাথে সক্ষ্যতা গড়ে তুলে ভিজিএফ’র চাল বিতরণে নজিরবিহীন দুর্নীতির আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে অনুমোদনহীন তালিকা দিয়ে মনগড়া ভাবে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ করায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ প্রধানমন্ত্রীর ঈদের পূর্ব মুহূর্তে দেয়া উপহার ভিজিএফে’র চাল থেকে বঞ্চিত থাকেন। চাল বিতরণের ঘরে বসে তৈরি করা মাস্টাররোল অনুসন্ধান করে মৃত ব্যক্তিদের নামে ভিজিএফে’র চাল বিতরণের নজিরবিহীন ঘটনা ধরা পড়ে। ৫ হাজার ৫৩ জনের মধ্যে একটি ওয়ার্ড এর তালিকা যাচাই করলে দুর্নীতির এই চিত্র ফুটে ওঠে। এদের মধ্যে সচ্ছল পরিবার, মৃত ব্যক্তি ও ভুয়া ন্যাশনাল আইডি কার্ড ব্যবহার করে ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু মিয়া প্রতিবন্ধি প্রিয়াংকা রাণীর ভাতার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করে কার্ড করে দেয়ার দাবি করেছেন।

ইউপি সদস্য আকতারা বেগম, কার্ড করে দেয়ার জন্য ৫ হাজার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সমাজসেবা অফিসে গেলেই টাকা লাগে তাই টাকা নিয়েছিলাম তবে টাকা ফেরত দিব।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মঙ্গা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন । কেউ যদি দুস্থ্য ভাতাভোগীদের টাকা আত্মসাৎ করে থাকে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

Comments are closed.

     এই ধরনের আরো সংবাদ