আজ ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনাকালে সীমিত মুসল্লি নিয়ে হজের পরিকল্পনা সৌদির

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে চলতি বছরের হজ অনুষ্ঠিত হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় আগে থেকেই ছিল। তবে এবার জানা যাচ্ছে, হজ বাতিল নয়, সীমিত সংখ্যক মুসল্লিদের নিয়ে এ বছরের হজের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা লাখ পার হওয়ায় এর সংক্রমণ রোধ করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

সাধারণত প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ করতে সৌদি আরব যান। হজ ও বছরব্যাপী ওমরাহ থেকে সৌদি সরকারের বছরে আয় হয় অন্তত ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এবছর করোনা সংক্রমণের কারণে সংশয় দেখা দিয়েছে হজ নিয়ে। সৌদিতে এরই মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ বাড়ছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই।

গত মার্চে বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের আপাতত হজের পরিকল্পনা বাদ দেয়ার পরমর্শ দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয় ওমরাহ পালন।

সৌদি আরবের হজ সংশ্লিষ্ট দু’টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন ‘প্রতীকী সংখ্যায়’ মুসল্লিদের হজের অনুমতি দেয়ার চিন্তা করছে। করোনার কারণে বয়স্কদের হজ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ কঠোর নীতি অবলম্বন করে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক লোক নিয়ে হজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ চিন্তা করছে যে, প্রতিটি দেশ থেকে প্রতিবছর কোটাভিত্তিক যত লোক হজ করে, এ বছর প্রত্যেক দেশ থেকে নিয়মিত কোটার ২০ শতাংশ লোককে হজের অনুমতি দেয়া হতে পারে।

এই তিনটি সূত্রই জানিয়েছে, এখনো কয়েকজন কর্মকর্তা হজ বাতিলের পক্ষে চাপ দিচ্ছেন। এই বছরের হজ জুলাইয়ের শেষদিকে শুরু হবে।

যদিও এই বিষয়ে সরকারী মিডিয়া অফিস এবং হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। হজের সীমাবদ্ধতা ও তেলের দাম কমে যাওয়ায় সৌদি অর্থনীতি চাপের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত মার্চ মাসে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞারোপ করে সৌদি। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার জেদ্দায় পুনরায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। জেদ্দার এয়ারপোর্টেই হজের ফ্লাইটগুলো অবতরণ করে।

২০১৯ সালে প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ মানুষ ওমরাহ পালন করেন। একই বছরে ২৬ লাখ লোক হজে অংশ নিয়েছিলেন। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনায় রয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে উমরাহ ও হজের ধারণক্ষমতা বাৎসরিকভাবে ৩ কোটিতে বৃদ্ধি করা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই পরিমাণ ৫ কোটিতে বৃদ্ধি করা।

বিভিন্ন কারণে হজ বাতিলের ইতিহাস রয়েছে। প্রথমবার বাতিল হয়েছিল ৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে। এরপর বন্ধ হয়েছিল ৯৩০ সালে হামলার কারণে। সেসময় হামলাকারীরা হাজরে আসওয়াদ বাহরাইনে নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে হাজরে আসওয়াদ পুনরুদ্ধার হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এক দশক হজ বন্ধ ছিল। এরপর ৯৮৩ থেকে ৯৯০ সাল পর্যন্ত হজ বন্ধ ছিল।

শুধু যুদ্ধ-বিগ্রহ না, মহামারির কারণেও হজ বাতিল হয়েছিল। প্রথমে ১৮১৪ সালে হেজাজ প্রদেশে প্লেগের কারণে ৮,০০০ মানুষ মারা যাওয়ায় হজ বাতিল করা হয়। এরপর ১৮৩১ সালে ভারত থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের মাধ্যমে মক্কায় প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং চারভাগের তিনভাগ হাজী মৃত্যুবরণ করে। ফলে সে বছর হজ বাতিল করা হয়। এছাড়াও ১৮৩৭ থেকে ১৮৫৮ সালের মধ্যে প্লেগ এবং কলেরার কারণে হজ বন্ধ ছিল।

সূত্র- রয়টার্স।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

Comments are closed.

     এই ধরনের আরো সংবাদ