আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সদ্য বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেহেদী হাসান

“কালের কন্ঠ” পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউএনও মেহেদী হাসান

গত ২২/০৩/২০২০ ইং রাজিবপুর আঞ্চলিক প্রতিনিধি কর্তৃক  “দৈনিক কালের কন্ঠ” পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত “ইউএনও’র গৃহ নির্মাণ বাণিজ্য!” শিরোনামে যে সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে উক্ত সংবাদটি সম্পুর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত।তাই আমি সংবাদটির তীব্র  প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি বলে অভিযোগ করেন সদ্য বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেহেদী হাসান, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

অনলাইন সংবাদে যে সকল অভিযোগ সম্পর্কে লেখা হয়েছে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা নিচে তুলে ধরা হলো:

 

অভিযোগ ০১:

“সদর ইউনিয়নের সদস্য ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক হতে টাকা ইউএনও স্যার তাবলীক জামায়াতি বন্ধুদের দিয়ে তুলে নিয়েছেন। পরে আমি ইউএনও স্যারের কাছে গেলে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে হুমকি দেন।”

কিন্তু এর প্রেক্ষিতে, ইউপি সদস্য ০৬ নং ওয়ার্ড, ১ নং রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম প্রত্যয়ন করেন, দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মান কাজে শুরু থেকে জড়িত ছিলাম। নির্মান কাজে ব্যবহৃত ১ নং ইট, ভালো মানের বালু, উন্নত সিমেন্ট ও ভালো কাঠসহ সকল প্রকার মালামাল উন্নতমানের ব্যবহার করা হয়। ঘর নির্মান প্লান ও স্টিমেট অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।গত ২২/০৩/২০২০ ইং তারিখের “দৈনিক কালের কন্ঠ” পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত “ইউএনও’র গৃহ নির্মাণ বাণিজ্য!” শিরোনামে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা মিথ্যা ‍ও বানোয়াট।

 

অভিযোগ ০২:

“রাজীবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল অভিযোগ করে বলেন, প্র্রতিটি ঘর নির্মাণে একদিকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন অন্য দিকে সিমেন্ট কম ব্যবহার অর্থ বাচিয়ে পকেটে ভরেছেন।”

কিন্তু রাজীবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম বাদল প্রত্যয়ন করেন, হয়েছে।গত ২২/০৩/২০২০ ইং তারিখের “দৈনিক কালের কন্ঠ” পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত “ইউএনও’র গৃহ নির্মাণ বাণিজ্য!” শিরোনামে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা মিথ্যা ‍ও বানোয়াট। সেখানে আমার কোন প্রকার বক্তব্য নেওয়া হয়নি।

 

অভিযোগ ০৩:

“এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজীবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, গৃহ নির্মাণ কাজগুলো ইউএনও স্যার একা করছেন। আমার কাছ থেকে শুধু চেকে স্বাক্ষর নিয়েছে। আমাকে নানা সময়ে ভয় দেখাত স্যার।”

রাজীবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানও এই মর্মে প্রত্যয়ন করেন, ২২/০৩/২০২০ ইং তারিখের “দৈনিক কালের কন্ঠ” পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত “ইউএনও’র গৃহ নির্মাণ বাণিজ্য!” শিরোনামে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তা মিথ্যা ‍ও বানোয়াট। সেখানে আমার কোন প্রকার বক্তব্য নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে “দৈনিক কালের কন্ঠ” পত্রিকার রাজিবপুর প্রতিনিধি কুদ্দুস বিশ্বাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এখানে ৩ টি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার/চেয়ারম্যান সকলের অভিযোগের তীর ইউএনওর বিরুদ্ধে। ৭ টি বাড়িতে ঘর না উঠেও প্রকল্প বান্তবায়ন দেখানো হযেছে। গত কাল ডিসি স্যার আমাকে ফোন করেছিলেন।

রাজীবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের সাথে এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমার কাছে কোন প্রকার বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং আমি যতটুকু জানি সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস স্যারের কাছে গিয়েছিলো ২ টি ঘরের সুপারিশ নিয়ে। স্যার না করে দিয়েছেন জন্য তার সাথে মনমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছে বিধায় সে এরকম করতেছে।

এ  ব্যাপারে সদ্য বদলীকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মেহেদী হাসানের সাথে ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, কালের কন্ঠের সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং বানোয়াট রিপোর্ট করেছে। প্রসঙ্গ একই রেখে “গৃহহীনের ঘরের টাকায় জমি কিনলেন ইউএনও “ শিরোনামেও সে মিথ্যে নিউজ করেছে। এর ফলে চরমভাবে আমার সম্মানের হানি হয়েছে।

দূর্যোগ সহনীয় ঘরের ব্যাপারে আনিত অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রথমে ৫৫ টি এবং পরবর্তীতে ৬৯ টি, মোট ১২৪ টি ঘর আমরা বাস্তবায়ন করেছি এবং এর যথাযথ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদান করেছি।

তিনি বলেন, সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাসের আনিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি যাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তারা এই মর্মে  আমার নিকট লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছে যে, সাংবাদিককে তারা কোন প্রকার বক্তব্য প্রদান করেন নি।

তিনি আরো বলেন, শুধু আমি না যে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে; যে কোন উন্নয়ন প্রকল্প, যে কোনো ধরনের বরাদ্দ আসলেই সে বিভিন্ন ধরনের জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবীদ, সাধারন জনগন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে নানা অজুহাতে পত্রিকায় নাম দিবেন এই অজুহাতে বিভিন্ন সময় টাকা দাবী করেন বলে তারা আমাকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতেন। এ সবকিছুর মূল কারন হচ্ছে তিনি একজন মাদকসেবনকারী, ইয়াবা সেবনকারী এবং মাদক ব্যবসায়ী বলে আমি জানতে পারি এবং ইতোমধ্যে তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। মাদকের টাকা যোগান দিতেই তিনি আসলে এসকল কর্মকান্ড রাজিবপুর রৌমারী উপজেলা জুড়ে চালান এটা সাধারন জনগনের প্রত্যেকেরই অভিমত এবং তার এহেন কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অসন্তোষ। এর পূর্বে আমি এসকল অভিযোগের প্রমানসহ কালের কন্ঠের সম্পাদককে মেইল করেছিলাম কিন্তু এতে কোন সুরাহা হয়নি। এজন্য এ বিষয়ে আমরা কালের কন্ঠকে পুনরায় জানাচ্ছি এবং এটা যদি চলতে থাকে তাহলে একজন সৎ অফিসারের পক্ষে অথবা  একজন ভালো মানুষের পক্ষে আসলে ভালো কাজ করা খুব দূর্বোধ্য হয়ে যাবে তাই আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং কঠোর শাস্তির দাবী জানাই। আমি ইতোমধ্যে আমার যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছি।

 

 

 

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

Comments are closed.

     এই ধরনের আরো সংবাদ