আজ ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়াতেই হাতিয়ে নেয়া হলো ২০ কোটি টাকা, অভিযোগ পিডি’র

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক)৪৯ কোটি টাকার স্ট্রীটলাইটিং প্রকল্পের ৮টি গ্রুপের সব কটি কাজই পেয়েছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডেক্স কর্পোরেশন লিমিটেড।

বিশেষ এই প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দিতে গোপনীয় অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট সরবরাহের অভিযোগ শুধু নয়, মেয়রের বিরুদ্ধে টেন্ডারের স্পেসিফিকেশন পাল্টে দেয়ার অভিযোগ করেছেন সিটি কর্পোরেশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এমদাদ হোসেন। স্পেসিফিকেশন পরিবর্তনের মাধ্যমে নিম্নমানের বাল্ব সরবরাহ করে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্পের ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য ক্রয়ের জন্য ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর টেন্ডার আহ্বান করে রংপুর সিটি কর্পোরেশন। ৮টি গ্রুপে ৪৮ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকার এই কাজ পেতে ১০ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। কিন্তুু মেয়রের পছন্দের এডেক্স কর্পোরেশন লিমিটেড ও মেসার্স খায়রুল কবীর রানা ৮টি গ্রুপই হন সর্বনিম্ন দরদাতা। সিটি কর্পোরেশনের অফিসিয়াল স্টিমেটের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে এই দুই প্রতিষ্ঠানের দর। পরে এডেক্স কর্পোরেশন লিমিটেডই পায় ৮টি গ্রুপের সমস্ত কাজ। কার্যাদেশ নিয়ে এরই মধ্যে এডেক্স কাজ শুরু করলেও এই শাখার বর্তমান ইনচার্জ সাজ্জাদ হোসেন এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

তিনি জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ার সময় ইলেক্ট্রিক্যাল শাখার ইনচার্জ ছিলেন রফিকুল ইসলাম নামে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী। টেন্ডারের স্পেসিফিকেশনে সুনির্দিষ্টভাবে ইউরোপ, জার্মান ও হল্যান্ডের ৩৬ ওয়াটের বাল্বের উল্লেখ থাকলেও সিটি কর্পোরেশনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পিডি এমদাদ হোসেন অভিযোগ করে জানান, তার নিষেধ উপেক্ষা করে টেন্ডারের শর্তে বিকল্প হিসেবে চায়নার এলইডি বাল্ব ৬০ ওয়ার্ডের লাইটের কথা উল্লেখ করেন মেয়র। যা কোন ভাবেই আইনসিদ্ধ নয় বলেও উল্লেখ করেন। এমদাদ আরো বলেন, লিখিতভাবে তিনি মেয়রের এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, মেয়রের বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। কিন্তুু টেন্ডারের স্পেসিফিকেশনে উল্লেখিত ইউরোপ, জার্মান ও হল্যান্ডের ৩৬ ওয়ার্টের বাল্বই ব্যবহার করা হবে। পুরো ঘটনায় মেয়রের কথিত শ্যালক ভাই ও স্ত্রী জড়িত উল্লেখ করে দরপত্রে অংশ নেয়া এক ঠিকাদার দুর্নীতিদমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তুু সিটি কর্পোরেশনে পরিবারের কারও জড়িত থাকার অভিযোগ জোড় গলায় অস্বীকার করেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তফা। টেন্ডার প্রক্রিয়াতেই ঠিকাদারকে অন্তত ২০ কোটি টাকা লাভের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে, অভিযোগ করেছেন টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী কিছু ঠিকাদার।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সুত্র জানিয়েছেন, এধরণের একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি, অভিযোগকারীর কাছে কিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

Comments are closed.

     এই ধরনের আরো সংবাদ